বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

গ্লোরী মাল্টিপারপাস সমিতির নামে টাকা আত্মসাৎ কারীরা রক্ষা পাচ্ছেন কি ? টাকা চাওয়াতে গ্রাহকদের উপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন আত্মসাৎ কারীরা !

ছবি :গ্লোরী মাল্টিপারপাস সমিতির নামে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ কারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সমবায় সমিতি নামে হাজার হাজার মানুষের কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে দেশের একটি কুচক্রীমহল। তাদরে লক্ষ্যই হলো, কয়কে বছর ভালোভাবে সমবায় সমিতি পরিচালনার মাধ্যমে গ্রাহক বৃদ্ধি করে যখন কোটি কোটি টাকা জমা হয়, মুর্হূতইে র্কাযক্রম গুটিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা, প্রয়োজনে দেশ থেকে পালায় চক্রটি। এভাবইে অসংখ্য সমবায় সমিতি দেশের মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এ ধরনরে প্রতারণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিন্ম শ্রেনীর বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের র্কমরত শ্রমিকরা।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও শমসের পাড়া গ্লোরি মাল্টিপারপাস সমিতির টাকা আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে সমবায় অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি। অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মূলহোতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসাসহ কমিটির ছয় সদস্যকে দায়ী করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত ৩০ নভেম্বর সমবায় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এদিকে, টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের ব্যাপক বিক্ষোভের পরও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় নির্বিঘ্নে দুবাইয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মূলহোতা মোহাম্মদ ঈসা।
অন্যদিকে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থ না নেয়ায় তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়চ্ছে। এ অবস্থায় টাকা উদ্ধার করে গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়াটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও, সমবায় অধিদপ্তরের দাবি শীঘ্রই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে গ্লোরি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। যা ২০০৭ সালের ৯ মে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন গ্রহণ করে। এরমধ্যে গেল বছরের মাঝামাঝিতে সমিতির সকল সঞ্চয় হাতিয়ে গা ঢাকা দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসা। যিনি চান্দগাঁও বি ইউনিটের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। গা ঢাকার দেয়ার পর ঈসার খোঁজে বিজ্ঞপ্তিসহ নানা প্রচার প্রচারণা চালালেও তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারী কমিটির : পাঁচ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায়৮ কোটি টাকার আত্মসাদের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ড প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসা সমিতির সার্বিক কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ পরিচালনা করে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন কুট কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেন। সমিতির সভাপতি মো. আজম খান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সমিতির আর্থিক কর্মকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। যদিও সমিতির সকল কর্মকাণ্ডের সাথে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসা সরাসরি জড়িত থাকলেও ব্যবস্থাপনা কমিটির বাকি কর্মকর্তারাও দায় এড়াতে পারেন না। বরং উক্ত মামলার মূল অভিযোগের সাথে তারা সম্পৃক্ত এবং সকল প্রকার লেনদেনের জন্য দায়ী।

তাদের জ্ঞাতসারে সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন জালজালিয়াতি করে সমিতির সকল কর্মকাণ্ড ও লেনদেন এককভাবে পরিচালনা করতেন। ফলশ্রুতিতে অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। সুতরাং প্রতারিত সদস্যদের সঞ্চয় আমানতের অর্থ ব্যবস্থাপনা কমিটি সকল কর্মকর্তার নিকট হতে আদায়যোগ্য বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেন কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা সমবায় অফিসার মো.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন গ্লোরি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ঘটনা নজরে আসার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের বির“দ্ধে শীঘ্রই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে মামলাও দায়ের করা হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ তাদের সমস্ত সম্পতি জবদ্য করা হবে।
কাগজে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার হিসেব পাওয়া গেলেও এরবাইরেও আরও অর্থ থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। সঞ্চয়কৃত অর্থ গ্রহণ করা হলেও তা নিয়মিত লেজার বুক কিংবা কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠে আসে। এমন কথাও স্বীকার করেন খোদ কমিটির সভাপতি-অর্থ সম্পাদকসহ অন্যরাও।
ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ জানান,টাকার পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকার ও বেশি। দ্রুত হতদ্ররিদ্র গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান । অন্যথায় আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছু করার নাই। আত্মসাত কারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা খোজতে ভয় পাচ্ছে বলে অনেকে জানান।সমিতিতে জমানো টাকা খোজতে গিয়ে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন অনেকে। তাদের হামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছেন ,আফছার,আবুল কালাম,মো.সাইম ,মো.আনোয়ার,রুবায়েত,মো.মাসুম।
তদন্ত কমিটির কাছে সভাপতি মো. আজম খান অর্থ সম্পাদক ওসমান গনি এবং সদস্য এন এম হাসান মুরাদসহ চারজনের বক্তব্যে সমিতির লেজার বুক, ক্যাশ বুক ব্যবহার না করে একটি সফটওয়ার ব্যবহার করা হতো এবং উক্ত সফটওয়ারে সকল হিসাব ঠিক করে লিপিবদ্ধ বা এন্ট্রি দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন। সে হিসেবে উল্লেখিত অর্থের বাইরেও আর কত টাকা ছিল তার কোন হদিস নেই।

মানবাধিকার নেতা এবিএম শাহাদাত উল্লাহ বলেন,এ ধরনরে সমিতি যারা মানুষরে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গছে, তাদরে অবশ্যই খুঁজে বরে করে আইনরে আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে তাদরে সব ধরনরে সম্পত্তি কিংবা র্অথ বাজয়োপ্ত করে গ্রাহকরে হাতে তুলে দওেয়ার পাশাপাশি কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষতে এ ধরনের প্রতারণা করতে কউে সাহস পাবে না। বস্তুত সরকাররে নীরব ভূমকিার কারণেই এরা এত সক্রিয়। তাই এখনই এদের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত