বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত – পর্যটন খাতের  অপার সম্ভাবনা

 

জাহেদ কায়সার ( চট্টগ্রাম)  :
চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর  তল দেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের বদৌলতে প্রকৃতির রূপসী কন্যা নামে পরিচিত অন্যতম জনপ্রিয়   আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত ঘিরে  পর্যটন খাতে  অপার সম্ভাবনা দেখা  দিয়েছে ।

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার  দূরত্বে  এই পর্যটন কেন্দ্র  যেন এতদিন অনেকটাই চোখের আড়ালে ছিল। শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই এতদিন অবহেলিত ছিল এ সমুদ্র সৈকত। অজানা ছিল পর্যটকদের কাছে।

গত ২৮ অক্টোবর দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের পর থেকে পাল্টে যাচ্ছে এখানকার দৃশ্য পট। হাতছানি  দিচ্ছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা।
টানেলের কারণে এখন নগরীর  পতেঙ্গা থেকে পারকি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে সময়  লাগছে  মাত্র ১৫ মিনিট। যেখানে যেতে  আগের  সময় লাগে মাত্র দুই  ঘন্টা।  যোগাযোগ  ব্যবস্হা উন্নতির ফলে
এর মধ্যে পারকি সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন অসংখ্য  পর্যটক ছুটে আসছে এখানকার  সৌন্দর্য দেখতে।
সাগরের গর্জন , ঢেউয়ের মিতালী এবং নীল জলরাশী ,  ঝাউবন ,  সৈকতের বালুচরে লাল কাঁকড়ার ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য কিংবা দূরে গভীর সমুদ্রে নোঙর করা  জাহাজের সারি  আর দিনশেষে  সূর্যাস্তদৃশ্য  বিমোহিত করে আগত পর্যটকদের ।  শীত আসলে এই সৈকতে  পর্যটকের আনাগোনা আরো বেড়ে যায় ,  মূখরিত হয়ে উঠে পুরো বালুকাবেলা ।

সম্প্রতি  বঙ্গবন্ধু টানেল  চালু হওয়ার পর  থেকে এখানে পর্যটকের সংখ্যা  বেড়ে গেছে কয়েকগুন ।  প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত  থেকে দর্শনার্থীরা গাড়ি নিয়ে ছুঁটে আসছেন। টানেল রোডটি এখন আশপাশের লোকদের জন্য একটি চমৎকার দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। রাতারাতি  পাল্টে  যাচ্ছে  এখানকার পরিবেশ।  তৈরী হচ্ছে  নতুন  নতুন  অবকাঠামো ,  শিল্পকারখানা ,  আবাসনের পাশাপাশি খুলছে পর্যটন শিল্পের নতুন দুয়ার।

চট্টগ্রাম  কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারা উপজেলার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত। প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে  এ সমুদ্র সৈকত দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এই সৈকতকে একটি অত্যাধুনিক ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে গড়ে তুলতে
সৈকতের পাশে পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছিল এ প্রকল্পের কাজ। ২০২৪ সালের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।
পাশাপাশি পারকি সমুদ্র সৈকত এলাকার ৭৯ একর জায়গাজুড়ে থাকছে ৭২টি পর্যটকবান্ধব কটেজ। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ এই কটেজগুলো নির্মাণ করছে। এসব কটেজে বসে সমুদ্র সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। দৃষ্টিনন্দন কটেজগুলোর কোনোটি একতলা, দোতলা ও তিনতলা বিশিষ্ট। কটেজগুলোর নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পর্যটকবান্ধব কটেজগুলো পারকি সমুদ্র সৈকতকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
যেখানে থাকছে; ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, ৪টি ডুপ্লেক্স কটেজ, ওয়াশ ব্লক, বার, কনভেনশন হল, রেস্টুরেন্টে, কৃত্রিম লেক, গাড়ি পার্কিং, পিকনিক স্পট ও শিশুদের খেলার মাঠ।

এখানে বেড়াতে অনেক পর্যটকরা বলেন –   টানেল চালু  হওয়ায়  পশ্চিম আনোয়ারা, গহিরাসহ আশেপাশের জমিদাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ,  গড়ে উঠেছে  নতুন  নতুন  বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান , স্থানীয়রা সচ্ছল হচ্ছে  , বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। শহর থেকে যেখানে যেতে দুই  ঘণ্টার বেশি সময় লাগেতো ,  টানেল  দিয়ে সেখান ১০-১৫ মিনিটে পৌঁছানো যাচ্ছে । পারকি সমুদ্র সৈকত দেখতে কক্সবাজারের চেয়ে কোন অংশ  কম নয়। কিন্তু এখানে  থাকা – খাওয়ার ভালো  কোন ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার আগেই  ফিরতে হয়ে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে  আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, আনোয়ারা একটি শিল্প জোন। বঙ্গবন্ধু টানেল বাস্তবায়নের ফলে আনোয়ারা পারর্কি সমুদ্র সৈকত  পরিণত হতে যাচ্ছে বিশ্বমানের পর্যটন স্পটে। বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষে এ  সৈকত একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। শিল্প এলাকায় এরকম একটি প্রাকৃতিক সম্পদ বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলায় দারুণ কাজ করে।

এদিকে, পারকি সমুদ্র সৈকতে উত্তাল সাগরের ঢেউ, বহির্নোঙরে সারি সারি জাহাজ, সৈকতের একপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে বড় আকৃতির ঝাউ বাগান দেখতে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকের আগমন দিনদিন বাড়ছে।  সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হলে প্রতিদিন ভোরে সমুদ্র সৈকতের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকবে।  দেশের উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন  শিল্প খাতে  বিনিয়োগ  বাড়াতে হবে । আর  তার জন্য চাই   সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত