বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বিএনপির আন্দোলন আরো বেগবান হবে

মো.নজরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরেকবার ভোট ডাকাতি করতে চায় বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ‘ভোট ডাকাতি’ রুখতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির লড়াই চলছে এবং চলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। বারবার বিএনপি বিজয়ী হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। এবারও বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

গতকাল দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নূর আহম্মদ সড়কে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ এবং বিএনপির ১০ দফা দাবিতে’ কেন্দ্র ঘোষিত এ সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে যারা হালালভাবে উপার্জন করে সেই শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অল্প বেতনের সরকারি চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষ আর চলতে পারছে না। প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে দুইবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে, যা আগে কখনো শুনিও নাই। যদি সরকার জনগণের সমর্থনের পরোয়া করত তাহলে এসব করত না। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে জনগণকে কষ্ট দিতে পারত না। তারা অতীতে কখনো জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি এবং ভবিষ্যতে আসতে চায় না। আরেকবার তারা ভোট ডাকাতি করতে চায়। দিবেন তাদের ভোট চুরি করতে? কেউ দিবেন না। সেজন্য আমাদের লড়াই চলছে এবং চলবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরে পদযাত্রা করেছি। এতে জনগণের বিপুল সাড়া ছিল। আমরা চাই আগামী দিনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই পদযাত্রা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল ইউনিয়নে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়নের সব জনগণ, সব নারী–পুরুষ এতে অংশ নিবে। তিনি বলেন, এ সরকার আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। আমরা দেখতে চাই, সারা দেশে কয়টা ইউনিয়নে তারা বাধা দিতে পারে।

তিনি বলেন, আন্দোলন আরো বেগবান হবে। আন্দোলনের মুখে অবৈধ সরকারের পতন হবে। সেই পতনে আমি, আপনি, আমরা সবাই অংশীদার থাকব। জনগণ আমাদের সাথে আছে। বিজয় আমাদের নিশ্চিত। আমরা একবার বাকশালের গোরস্তানের উপর শহীদ জিয়ার হাত ধরে গণতন্ত্র পেয়েছিলাম। আরেকবার খালেদা জিয়ার হাত ধরে স্বৈরাচার সরকার থেকে গণতন্ত্র পেয়েছিলাম। এবার ক্ষমতাসীন সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব তারেক রহমানের হাত ধরে। বিজয় সুনিশ্চিত। বারবার বিএনপি বিজয়ী হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। এবারও বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের শাসক না। জনবিচ্ছিন্ন এ সরকারকে জনগণের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত করব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পতন ছাড়া বিকল্প নাই। তাই চলমান সরকার পতন আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে হবে।

তিনি বলেন, শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য না, আমরা জনগণের জন্য লড়াই করছি। আওয়ামী লীগের লুটপাটের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। সে নাভিশ্বাস থেকে জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। সরকার সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, নৈরাজ্যবাদী ও কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন সৃষ্টি করে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আন্দোলনের বিকল্প নাই। বাংলাদেশের যে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তা আমরা দেশে ফিরিয়ে আনব।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নোমান বলেন, মনে রাখতে হবে, আমরা মহাযুদ্ধের মধ্যে আছি এবং এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। জয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

সমাবেশে বিপুল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য রক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন নোমান। বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং সূর্য সেনের নেতৃত্বে ১২ ঘণ্টা স্বাধীন ছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের নবরূপ শুরু হবে। সেখানে আমরা নিশ্চিত জয় লাভ করব। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে ৩৫ লক্ষ মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্য করাতে হবে।

মীর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) বলেন তারা মিছিল করলে আমরা নাকি পালানোর জায়গা পাব না। আজ এসে তিনি দেখে যাক, কত লক্ষ মানুষ হয়েছে এখানে। তিনি বলেন, আমরা যদি ঘোষণা দিই আজ থেকে বাংলাদেশ বন্ধ, তাহলে তাদের সে ক্ষমতা নাই আবার চালু করার। তারা নাকি স্মার্ট বাংলাদেশ করবে, দুর্নীতিবাজদের মুখে স্মার্ট বাংলাদেশের কথা মানায় না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনতে আরেকটা গণ অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। সে ডাক আসবে। তখন সব অচল হয়ে যাবে।

জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, গাছের ফল যখন পচে যায় তখন সেটা ঝরে পড়ে যায়। আওয়ামী লীগও আজ পচে গেছে।

আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, বিএনপির ১০ দফা দাবির প্রতি আওয়ামী লীগ ভ্রূক্ষেপ করছে না। তারা আবারো কালো টাকা দিয়ে আরেকটা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে।

জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, আমাদের আন্দোলন হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সরকার বলছে ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হবে না।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, সমাবেশের আওয়াজ হচ্ছে আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হবে।

এস এম ফজলুল হক বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দাবি আমাদের একটাই, তা হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকের সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করেছে চট্টগ্রাম বিএনপির ঘাঁটি। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, মৎস্যজীবী সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, উপজাতি সম্পাদক মা ম্যা চিং, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুনুর রশীদ ভিপি, সহ–কর্মসংস্থান সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সহ–গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমদ, কঙবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, শাহাবুদ্দীন সাবু, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উদয় কুসুম বড়ুয়া, কাজী মুফিজুর রহমান, মশিউর রহমান বিপ্লব, সাচিং প্রু জেরী, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপেন তালুকদার, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, কঙবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফসার ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত