সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

তুলির আঁচড়ে ভাস্বর লোকজ ঐতিহ্য

গফরগাঁও-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে চিত্রশিল্পী রুহুল আমিন কাজলের রংতুলির আঁচড় -

গফরগাঁও-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক। দ্রুতগতিতে চলছে মাইক্রোবাস। হঠাৎ যাত্রীরা চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। স্কুলপড়ূয়া তাহমিদা, রিয়া, রোযা, তাহমিদসহ যাত্রীরা নেমে পড়ে ময়মনসিংহগামী গাড়িটি থেকে। তারা মুগ্ধ হয়ে সড়কের দুই পাশে দেয়ালে শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁকা গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য দেখে। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবক অধ্যক্ষ রওশন আরা বেগম। তিনি বলেন, দেয়ালে অঙ্কিত চিত্রকর্ম দেখে বাচ্চারা উৎসাহ দেখায়। এগুলোতে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে।

মহাসড়কে গফরগাঁওয়ের উসাইল ঢালিবাড়ী মোড় এলাকায় এসব চিত্রকর্ম প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনন্দের খোরাক জোগায়। দুই স্থানে রাস্তার দুই পাশে আঁকা হয়েছে এসব চিত্রকর্ম। দেয়ালে প্রতিটি চিত্রকর্মের ক্যানভাস ছড়িয়েছে ৫০০ ফুটব্যাপী। রঙের তুলিতে লতাপাতা, ফুল-পাখির পাশাপাশি বাংলার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য প্রকাশ পেয়েছে।

১৯৯৪ সালে সুইডেনে কার্নিভালে ট্রাফিক আর্ট (সড়কচিত্র) এঁকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের চিত্রশিল্পী রুহুল আমিন কাজল। তিনি ইউরোপের নানা দেশে ছবি এঁকে সুনাম অর্জন করেছেন। এ শিল্পীর ‘কলোনি’ সিরিজের চিত্রকর্মগুলো বেশ সমাদৃত। তিনি ‘ডেমোক্রজি’, ‘কিলিজিয়ন’, ‘ইভিলাইজেশন’ শিরোনাম ব্যবহার করে নতুন শব্দ তৈরি করেছেন। নিজ জন্মস্থানের শিল্প, নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতেই তিনি মহাসড়কে এঁকেছেন এসব চিত্রকর্ম।

চিত্রশিল্পী কাজল সমকালকে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের কাছে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে চিত্রাঙ্কনের আগ্রহের কথা জানান। সংসদ সদস্যের সম্মতি ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে চিত্রাঙ্কন শুরু করেন। কাজল বলেন, এসব চিত্রকর্ম দেখতে প্রতিদিন নানা পেশার মানুষ মহাসড়কে আসছেন। তাঁরা এসব চিত্রকর্মের পাশে ছবি তুলছেন। আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। কাজল বলেন, বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

রেলক্রসিং-সংলগ্ন হওয়ায় ট্রেন যাত্রীরাও এসব চিত্রকর্ম দেখতে পাচ্ছেন। চিত্রকর্ম দেখতে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিথুন আহমেদ বলেন, এসব চিত্রকর্ম মনোমুগ্ধকর। বাচ্চারা খুবই আনন্দ পায়। লোকজ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলায় সংশ্নিষ্টদের ধন্যবাদ। শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবীর টিটো বলেন, শিল্পী কাজল অসাধারণ কাজ করেছেন।

শিল্পী কাজলের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন চিত্রশিল্পী জ. ই. সুমন। তিনি বলেন, এসব চিত্রকর্ম দেখতে প্রতিদিন মানুষ আসায় তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক ঢালী বলেন, বহু মানুষ এগুলো দেখে আনন্দ পাচ্ছেন।

রুহুল আমিন কাজল বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনের দেয়াল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে চিত্রকর্মের মাধ্যমে সড়ক চিত্রের কাজ শুরু করেন তিনি। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর চিত্রকর্ম প্রকাশিত হয়। জন্মস্থানে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।

সংসদ সদস্য বাবেল বলেন, একটি এলাকার নানা কর্মে এলাকার মানুষের আচরণ প্রকাশ পায়। তাঁর এলাকার মহাসড়কে গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি প্রকাশে সহযোগিতা করতে পেরে ভালো লাগছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত