বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করলো বরিশাল বিএনপির

বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে

এস.এম শাহজাহান,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে
বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানেছবি: সাইয়ান

বরিশালে গতকাল শনিবার বিএনপির গণসমাবেশ ছিল মোটামুটি ছয় ঘণ্টার। এতে যোগ দিতে তিন দিন আগে থেকেই নানা পন্থায় শহরে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা, কর্মী, সমর্থকেরা। সমাবেশ ঘিরে সড়ক ও নৌপথের সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বরিশাল। সর্বশেষ ক্ষমতাসীন দলের মিছিল ও মহড়াকে কেন্দ্র করে ছিল শঙ্কাও। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বড় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

গতকাল বিকেলে বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) এই সমাবেশ হয়। সব বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করার জন্য বরিশালবাসীকে অভিবাদন জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সাফল্যের পেছনে টানটা কোথায়? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘টানটা হচ্ছে আমার কলিজার টান, আমার অধিকারের টান। যে অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।’

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও দলের পাঁচ নেতা-কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে সারা দেশে বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ কর্মসূচি দেয় বিএনপি। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরের পর বরিশালের এই সমাবেশ ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা চলছিল। গত শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বাস, ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, তিন চাকার যান, স্পিডবোট এবং অভ্যন্তরীণ সব গন্তব্যের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এমনকি ঢাকা-বরিশাল পথে চলাচলকারী লঞ্চও চলেনি। সব মিলে সারা দেশ থেকে টানা ৩৬ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল বরিশাল। এমন বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। আগের চারটি বিভাগীয় সমাবেশের সময় বাধা ও পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বরিশাল বিভাগের বিএনপির নেতা-কর্মীরা আগেই চলে আসেন বরিশাল শহরে। গত বুধবার দুপুরের পর থেকে তাঁরা সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে থাকেন। শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। দুপুর ১২টায় সমাবেশ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। তিন দিনের ধকলে মাঠে নেতা-কর্মীদের অনেককে ক্লান্ত দেখা যায়। যে কারণে দুপুরের দিকে অনেকেই মাঠ ছেড়ে আশপাশের সড়কের ফুটপাতে, ছায়ায় অবস্থান নিতে দেখা যায়।

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়

গণসমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন প্রধান অতিথি। তিনি বর্তমান সরকারের অধীন নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবারও বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার যে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বর্তমান সরকারকে ‘ভোট চোর’ বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ২০১৪ সালে ভোট চুরি করেছে, ২০১৮ সালে করেছে। এখন আবার নতুন করে নির্বাচন নিয়ে নতুন সব বুদ্ধি আঁটছে। নতুন নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এমন একটা ধারণা দেওয়া হচ্ছে যে এটা বোধ হয় একেবারে নিরপেক্ষ হবে। ইভিএমে ভোটের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। সেই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, সেই কমিশন নতুন করে নির্বাচন করবে এবং সেই নির্বাচনে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এটুকু কথা আপনাদের দিতে পারি, আন্দোলনের পরে যেই নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের পরে যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে, তাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেশের সংকটগুলো সমাধান করা হবে।’

১৫ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বিনা মূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি এবং ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। ১৪ বছর ধরে বিরোধী দল ও আলেম-ওলামাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হামলা ও মামলা আওয়ামী লীগের বড় অস্ত্র। যাদের ওপর হামলা করে, আবার তাদের বিরুদ্ধেই তারা মামলা দেয়। আজকে আলেম-ওলামারাও রেহাই পাচ্ছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। কেউ নিরাপদ নয় এখানে।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন বলছেন আমি কী করব, বৈশ্বিক সংকট, ডলারের সংকট। কিন্তু তখন মনে ছিল না, যখন টাকাগুলো চুরি করে পাচার করছিলেন। সেই কানাডা, মালয়েশিয়া আর ইউরোপে বাড়ি বানাচ্ছিলেন, তখন মনে ছিল না?’ তিনি বলেন, ‘এমন ঢাকঢোল পেটাল যে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি। হাতিরঝিলে আতশবাজি করল, সেই বিদ্যুৎ এখন আর নেই। সকালে হোটেলে ছিলাম, কমপক্ষে ১০ বার বিদ্যুৎ গেল আর এল। এই বিদ্যুতে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে। এমন একটা জায়গা পাবেন না, এমন একটা ক্ষেত্র নেই, যেখানে তারা চুরি করেনি।’ ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা বলে’ এখন দুর্ভিক্ষের কথা কেন বলা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন বিএনপির মহাসচিব।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এর ফয়সালা হবে কোথায়?’ নেতা-কর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘রাজপথে রাজপথে’। এরপর তিনি বলেন, ‘রাজপথে ফয়সালা করেই আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনব, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছিলেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত