সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

সড়ক ও ফুটপাত : জোর যার মুল্লুক তার

সড়ক ও ফুটপাত : জোর যার মুল্লুক তার

ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার সুবিধার্থে তৈরি হলেও রাজধানীসহ সারা দেশের
ফুটপাতে মানুষের হাঁটা এখন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাতে
অবৈধভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসা, এটা
যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত
সড়কের উপর দিয়ে হাঁটতে হয়। মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে অনেক পথচারী
প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই বিপদ।
অনেকে লাঞ্ছিতও হচ্ছেন। কথায় আছে- জোর যার মুল্লুক তার।
দেশে নগর ও মহানগর শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভাগীয় শহরে
আছে সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে আছে পৌরসভা, আছে
প্রশাসন। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে সড়ক ও জনপথ পরিষ্কার রাখা; কিন্তু তাদের
সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না। যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে
পরিচালিত হতো তাহলে সারা দেশের বিভাগীয় শহর ও মফস্বল শহরগুলোতে
ফুটপাত দখল হতো না। যানজটও থাকত না। জনগণকে ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক
দিয়ে চলাচল করতে হতো না। এমনিই যদি হয় সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থা তাহলে
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দায়িত্ব কী?
সম্প্রতি সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে সেগুলো
তাৎক্ষণিক উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
(ডিএনসিসি)। এ অভিযানে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত
ছিলেন। মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচার
অভিযানে গিয়ে ডিএনসিসি মেয়র দেখতে পান প্রধান সড়কে ও ফুটপাতে বিপুল
পরিমাণ রড, ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে।
সড়কে ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় ডিএনসিসি
মেয়র নির্মাণাধীন ভবনের কর্তৃপক্ষকে না পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে
ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে উন্মুক্ত নিলামে
সেসব বিক্রি করা হয়। ডিএনসিসির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়; কিন্তু হঠাৎ
একদিন অভিযানে নেমে রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিলামে

বিক্রি করে খবরের শিরোনাম হলেই হবে না। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা
করতে হবে।
শুধু মিরপুরেই নয়, সারা দেশে এমন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে আছে বড় বড়
গাড়ির শো-রুমের মালিকরা। ফুটপাতে তারা গাড়ির পরসা সাজিয়ে জনসাধারণের
হাঁটাচলায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে।
যেমন- প্রগতি সরণি কুড়িল, কাকরাইল, বাংলামোটর, বিজয়সরণি, তেজগাঁওসহ
ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে।
‘রাজধানীতে পর্যাপ্ত গণপরিবহণ নেই, তবে আছে অসহনীয় যানজট। যানজটে
নাকাল নগরবাসীর হেঁটে চলার জন্য ফুটপাত ব্যবহারেরও কোনো উপায় নেই।
কারণ ফুটপাত দখল হয়ে থাকে হকারদের কাছে’— এভাবেই নিজের ক্ষোভ
প্রকাশ করছিলেন কামরুল ইসলাম নামের একজন স্কুলশিক্ষক।
তিনি বলেন, নীলক্ষেত থেকে মিরপুর যাব, যতদূর চোখ যায় ততদূর পর্যন্ত
যানজটের স্থবিরতা দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম সিটি কলেজ পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে বাসে
উঠি কিন্তু ফুটপাতে বসা হকার, পার্ক করা গাড়ি ও মানুষের ভিড়ে হেঁটে
যাওয়ারও কোনো উপায় নেই।
রাজধানীতে বাড়ছে যানজট। প্রায় সব রাস্তায়, সিগন্যালে প্রতিদিন চোখে পড়ে
অসংখ্য বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। তারা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে। আর এই অসহনীয় যানজটে অতিষ্ঠ সাধারণ
কর্মজীবী মানুষ। তারা যখনই বাস থেকে নেমে ফুটপাত ধরে হাঁটতে চান তখন
পড়েন আরেক রকমের বিড়ম্বনায়।
ফুটপাত আছে ঠিকই কিন্তু সেই ফুটপাত দখল হয়ে হরেকরকম পণ্যের স্থায়ী
বাজারে পরিণত হয়েছে, যেখানে চলাচল অনেকটাই দুঃসাধ্য। ফুটপাতের পাশে গাড়ি
পার্কিং এবং ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করার কারণেও পথচারীরা
ফুটপাত ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েন। হরহামেশাই
দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে
বীরদর্পে চলে যান। রক্ষকরাই যদি ভক্ষক হন তাহলে সাধারণ জনগণ কী
করবে। পথচারীদের পড়তে হয় মোটরসাইকেল আতঙ্কে। ফলে একদিকে যানজট
অপরদিকে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার
হচ্ছেন পথচারীরা।

রাজধানীর সদরঘাট, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা,
পল্টন, জিপিও, বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, সাইন্স ল্যাবরেটরি,
এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট, মগবাজার, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, মিরপুর ও
গাবতলীর ফুটপাতগুলোতে বিভিন্ন দোকান বসানো হয়েছে আর এই ফুটপাতগুলো
ব্যবহার করায় পথচারীদের চলাচলে রীতিমতো দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটপাতের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় দোকান হলে তাদেরও
মাসিক ভাড়া দিতে হয় আর ছোট দোকানে প্রতিদিন দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণের
চাঁদা। এই চাঁদা কাদের দিতে হয়- জানতে চাইলে একাধিক দোকানি জানান, ‘লোক
আছে’। আমার প্রশ্ন- কারা এই লোক? রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চাঁদাবাজ নাকি
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে সেজন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখা
জরুরি। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার কাজটি কঠিন না হলেও ফুটপাতকে হকারমুক্ত
রাখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেওয়া হলেও
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তা আবারো দখল হয়ে যায়। ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির
বিষয়টিও বহুল আলোচিত। রাজধানীসহ সারা দেশেই ফুটপাতগুলো দখল করে
বিভিন্নরকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে হকাররা, প্রাইভেট কার শো-রুমের
মালিকরা। কেবল ফুটপাত নয়, কোনো কোনো এলাকায় মূল সড়কের একটি অংশ
হকারদের দখলে চলে গেছে। রাজধানীর ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত প্রধান
সড়কের উপরও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য যানবাহনে লোড-আনলোড
করা হয়। এ কারণে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
ফার্মগেটের ওভার ব্রিজ থেকে একটু সামনে (তেজগাঁও কলেজের দিকে) হঠাৎ
চোখে পড়ল জটলা। এগিয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ফুটপাত দোকানির সঙ্গে
এক পথচারীর বাগবিতণ্ডা। পথচারী তারেক আহমেদ জানান, ফুটপাত দখল করে
দোকান সাজাচ্ছে সেই দোকানি, আমি বললাম একটু পেছনের দিকে যান, মানুষের
হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে। আর তিনি (দোকানি) আমাকে মারতে তেড়ে এসে বলে- ‘টাকা
খরচ করে দোকান বসাতে হয়েছে।'
তারেক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোথায় যাবো ভাই, রাস্তায় এত
যানজট, ফুটপাতে দিয়ে হেঁটে যে যাবো তারও উপায় নেই। ফুটপাতে দোকান, শো-
রুমের গাড়ির পসরা, বিপাকে আমাদের মতো পথচারীরা।

সড়কে বালু রাখার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় পানি জমে
থাকছে। জনগণের চলাচলে বাধাগ্রস্ত করে ফুটপাত ও রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী
রাখা অপরাধ। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি যে প্রতিষ্ঠানই হোক না
কেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে।
পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে সেজন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখা
জরুরি। এজন্য প্রয়োজন আইনের বাস্তবায়ন। যারা এ আইন প্রয়োগ করবেন
তারাই বেআইনি কাজ করে বসে থাকেন। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা
প্রশাসনকে তাদের সঠিক আইন প্রয়োগ করতে হবে। সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ
দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেগুলো যাতে দখল না হয়
সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত