বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ০৭:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম ১০দফা দাবিতে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির স্মারকলিপি প্রদান সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখল নিতে হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত হারানো বিজ্ঞপ্তি চমেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে টিকিটে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দরবারে মূসাবীয়ার ৭৭ তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় মাজার মসজিদের  জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইউসেপ স্কুলে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয় ডাক্তার সেজে আইসিইউতে ল্যাব টেকনিশিয়ান বাকলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

৩০ ও ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম  কাস্টমস হাউজসহ সারাদেশের  শুল্ক স্টেশনে একযোগে  কর্মবিরতি

জাহেদ কায়সার  – 
কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা সংশোধন, সিপিসি ও এইচএসকোড সংক্রান্ত ভুলের কারণে শতকরা ২০০ থেকে ৪০০ ভাগ জরিমানা রহিতসহ বিভিন্ন দাবিতে  ৩০ ও ৩১ জানুয়ারী
চট্টগ্রাম সহ সারা দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনে দুই দিন কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন  সি এন্ড এফ এজেন্টরা। ২৯ জানুয়ারী সকাল ১১টায় ঢাকার নিউ বেইলি রোডের সি এন্ড এফ  ফেডারেশনের  কার্যালয়ে  সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব শামছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব সুলতান হোসেন খান এর সঞ্চালনায় এক  সভায় ঢাকা, চট্রগ্রাম, মংলা, বেনাপোল, সোনা মসজিদ, হিলি, ভোমরাসহ বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনের সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত এ বিষয়ে এ  সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কাস্টমস  এজেন্ট এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক  কাজী মাহামুদুর ইমাম  ( বিলু) স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি এসোসিয়েশনের সকল  সদস্যদের অবহিত করা হয় ।

  সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০১৬ জারির পর ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বারবার প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এরপর কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ প্রণয়নের সময়েও ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গুরুত্ব না দিয়েই বিধি জারি করা হয়েছিল।
দেশের সব সি এন্ড এফ এজেন্টেদের  মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লাইসেন্সিং রুলের কয়েকটি বিধি ও উপবিধি সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাজেট প্রস্তাবনায় কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।
এ বিষয়ে গত বছরের ২৮ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব একেএম নূরুল হুদা আজাদ এর নেতৃত্বে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকে লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ এর কিছু ধারা সংশোধনের বিষয়ে সম্মত্তি জ্ঞাপন করলেও অদ্যবধি কোন কার্যকনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংশোধনী প্রস্তাবে জানানো হয়, শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা-২০০০ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এইচএস কোড ও সিপিসি ভুলের কারণে জরিমানা আরোপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ ও বিধিবিধান বাতিল করতে হবে। অযৌক্তিক কারণে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে লাইসেন্সিং বিধিমালা ও কাস্টমস আইন ১৯৬৯-এর ধারা ২০৯ মোতাবেক কাজ না করে এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই এআইএন লক করা বা লাইসেন্স বাতিল করা বা কোনো দোষ প্রমাণিত না হলেও জরিমানা আরোপের মতো নিবর্তনমূলক কাজ বন্ধ করতে হবে। আমদানিকারকদের কাছে পাওনা অনাদায়ী থাকার কারণে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত রাখা যাবে না।
সংশোধনী প্রস্তাবে আরও জানানো হয়, আমদানি-রফতানি পণ্য চালান খালাসকালে কায়িক পরীক্ষা সম্পাদিত হয়নি অথবা প্রথমবার কায়িক পরীক্ষা সম্পাদনকালে কোনো পণ্য চালানে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে না। শুধু আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগ উত্থাপন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

ফেডারেশনের নেতারা  জানান , বর্তমান   লাইসেন্সিং রুলের বাধ্যবাধকতার কারণে সিএন্ডএফ এজেন্টরা স্বাভাবিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। সিএন্ডএফ এজেন্টরা সরকারের রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা করে থাকেন। জনগণের রাজস্বের টাকায় শুল্ক কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা দেয়া হয়। কিন্তু তারা আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন। বর্তমান লাইসেন্সিং বিধিমালা সংশোধন ব্যতিত সিএন্ড এজেন্টদের  মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। শুল্ক বিভাগের নিযুক্ত সহকারি রাজস্ব অফিসার (এআরও), রাজস্ব অফিসার (আর.ও), সহকারি কমিশনার (এসি), উপ-কমিশনারগণের (ডিসি) আচরণ খুবই বিদ্বেষপূর্ণ। বাংলাদেশ যে একটি স্বাধীন রাস্ট্র এটা সম্পর্কে ধ তাদের কোন জ্ঞান আছে বলে তাদের কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে না। আমরা ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে চরমভাবে নিগৃত হচ্ছি। এইচএসকোড, সিপিসি আলোচনার বিষয় কিন্তুু শুল্ক কতৃর্পক্ষ শতকরা ২০০-৪০০ ভাগ জরিমানা করতে বেশি আগ্রহী।
রাজস্ব আহরণ নির্বিঘ্নে রাখার স্বার্থে এনবিআরকে দ্রুতই এ দাবিগুলো নিয়ে যৌথ সভা আহ্বান করে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, এর আগেও দাবি না মানায় গত বছরের ৭ জুন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করেছিল ফেডারেশনের আওতাভুক্ত সকল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত