রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, মরদেহ নিয়ে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের বাঘারপাড়ায় রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে দাবি করা এক যুবকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার খাজুরা তেলপাম্প এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা কর্মসূচিতে নিহত রুবেলের স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত জনতা তেলীধান্যপুড়া গ্রামের বাসিন্দা রাব্বিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দাবি করে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। কাভার্ড ভ্যানটি যশোর-মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছান। এ সময় রুবেলের পথরোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২২) তিন-চারজন। এসময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাব্বি। পরে রাব্বি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন জানান, ‘রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল। তাদেরও বয়স রুবেলের মতো। খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।’

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, ‘হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews