
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্র চাপা পড়ে আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু শিশু আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ শিশু আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পড়ে।
উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল। বুধবার দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মাদরাসার ওপর আছড়ে পড়ে। সে সময় মাদ্রাসাটির অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণে ব্যস্ত ছিল। আকস্মিক এ পাহাড়ধসে ভবনটির একটি অংশ মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে যায় এবং শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়ে।
এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) টানা ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১০ জন। রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে বালুখালী, জামতলী ও কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে। সেখানে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), উম্মে হাবিবার ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
একই রাতে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী আশ্রয়শিবিরের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে নিহত হন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। আহত হন পরিবারের আরও দুই সদস্য।
এ ছাড়া রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভূমিধসে অন্তত ২৮ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শুধু ২০২৪ সালেই এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।