বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ক্ষুধা ভুলতে ‘ড্যান্ডি’র নেশায় ডুবে চট্টগ্রামের পথশিশুরা, ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের নিয়েই উদ্বেগ বেশি চট্টগ্রামে পুনর্বাসন পেয়েছে শতাধিক শিশু উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় পাহাড়ধসে নিহত ৮ শিক্ষার্থী, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু শিশু ৪২ বছর পর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত—ভেঙেছে সড়ক, দেয়ালধসে মৃত্যু দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আ.লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর অপমানজনক হার!’—যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে ইরানের খোঁচা বৈরী আবহাওয়ায় কমেছে এলএনজি সরবরাহ, তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে: নাহিদ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ফাহমিদা খানম খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ–জেএসএস গোলাগুলি, নিহত ৩ জায়গা নিয়ে বিরোধ, টেকনাফে লাঠির আঘাতে কলেজছাত্র নিহত

ক্ষুধা ভুলতে ‘ড্যান্ডি’র নেশায় ডুবে চট্টগ্রামের পথশিশুরা, ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের নিয়েই উদ্বেগ বেশি চট্টগ্রামে পুনর্বাসন পেয়েছে শতাধিক শিশু

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে
  1. চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ত মোড়, রেলস্টেশন, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা বাসস্ট্যান্ডে দিনের আলোতেই দেখা যায় একই দৃশ্য। হাতে ছোট একটি পলিথিন, তার ভেতরে জুতা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সলিউশন গাম। কয়েকবার গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার পরই তারা হারিয়ে যায় নেশার ঘোরে। অধিকাংশের বয়স ১০ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। ক্ষুধা ভুলে থাকতে তারা বেছে নিয়েছে ‘ড্যান্ডি’ নামের এই সস্তা নেশা। অথচ এই শিশুদের সংখ্যা কত, তাদের চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের অবস্থা কী, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেই নেই নির্ভরযোগ্য তথ্য।

    চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ফুটপাতে কথা হয় ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে। মুখে পলিথিন চেপে ধরে সে ড্যান্ডির বাষ্প টানছিল। কিছুক্ষণ পরই নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে জানায়, মা মারা যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কুমিল্লা থেকে পালিয়ে এসে কদমতলী রেলস্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে। কেন ড্যান্ডি সেবন করে, জানতে চাইলে রায়হান বলে, ‘আপা, এটা একটা সুখ। যা খাইলে রাজ্যের রাজা মনে হয়। ক্ষুধা তো লাগেই না, আর ঘুমায়। আবার পরেরদিন ওঠে আবার খায়। এটায় আমার জীবন।’

  2. অনেক পথশিশু অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এলাকার পথচারীরা জানান, চুরি, ছিনতাই এবং পথচারীদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় এসব শিশু-কিশোরের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে। ধরা পড়লে অনেকেই গণপিটুনির শিকার হচ্ছে।

তবে সমস্যার ব্যাপকতা সম্পর্কে সরকারের কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, আসক্ত পথশিশুদের বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

অন্যদিকে সামাজিক সংগঠন নগরফুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বায়েজিদ সুমন বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত ১০০-এর বেশি পথশিশুকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, যেকোনো ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। মাদকে আসক্ত শিশুদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে শিশুদের জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচি না থাকার কথা স্বীকার করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো কোতোয়ালী জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ আবুল কাশেম। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুদের নিয়ে পৃথক কোনো কার্যক্রম নেই। তবে তাদের জন্য একটি নিরাময়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুদের নিয়ে আলাদা কোনো অভিযান বা বিশেষ ব্যবস্থাও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি।

একদিকে প্রকাশ্যে ড্যান্ডি সেবন করছে পথশিশুরা, অন্যদিকে তাদের প্রকৃত সংখ্যা, আসক্তির মাত্রা কিংবা পুনর্বাসনের প্রয়োজন নিয়ে সরকারি কোনো সমন্বিত তথ্যভান্ডার নেই। ফলে ক্ষুধা, আসক্তি ও অপরাধের যে দুষ্টচক্রে এসব শিশু আটকে পড়ছে, তা থেকে বের করে আনতে কার্যকর উদ্যোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে রয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews