
মোঃ মাহাতাব উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই টর্চার সেলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয় তাকে। পরে মুখে কালি মেখে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘুরানো হয় পুরো হাসপাতালে। এভাবেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রুপমের নেতৃত্বে কয়েকটি চক্র নির্যাতন চালায় অভিযোগকারীর ওপর।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
আ.জ.ম নাছির ও ডাক্তার ফয়সাল ইকবালের অনুসারী হিসেবে হাসপাতালের দাপটে কর্মচারী ছিলেন সেই পরিচয় হাসপাতাল পরিচালক সহ কর্মচারী স্টাফ নার্স সবাই তার অপকর্ম দেখেও চুপ চিলেন।
ক্ষমতার জোরে অপরাধী রূপবান কান্তি দাস কীভাবে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখত এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর টর্চার সেলে অমানবিক নির্যাতন চালাত, তা সবার মুখেমুখে ।
সম্প্রতি এক কর্মচারীকে লাঞ্ছিতের ভিডিও ফাঁসের পর উঠে আসে চমকে ওঠার মতো তথ্য। চক্রগুলো করোনা মহামারির সময়েও হাসপাতালের ওষুধ, স্লিপ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোহেল নামের এক কর্মচারীকে গলা চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় মারছেন চট্টগ্রাম মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুপম কান্তি।
ঘটনাটি গত ২৬ জুলাই২০২১সালে দুপুর আড়াইটার দিকে মেডিকলের কর্মচারীদের ক্যান্টিনের সামনে। মূলত হাসপাতালের পরিচালকের কাছে তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় এভাবেই লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি সোহেলের।

নির্যাতনের শিকার মো. সোহেল জানান, তাদের অন্যায়, দুর্নীতি ও দালালদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মারধর করে তারা। পরে চতুর্থ শ্রেণির ক্যান্টিনে নিয়ে আমার গালায় মালা পরানোর চেষ্টা করে।
এর আগে সমিতির কার্যালয়ে ঢুকিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধরও করা হয় তাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয় বলে এটি সবার কাছে পরিচিত টর্চার সেল হিসেবে। রুপমের নেতৃত্বে চক্রটি মেডিকেলের পূর্ব গেটের সিটি ও একুশে ফার্মেসিসহ নানা ফার্মেসি থেকে রোগীদের বাধ্য করে বেশি দামে ওষুধ কিনতে। পছন্দের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ, সরকারি ওষুধ বাণিজ্যসহ অনিয়ম কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত চক্রটি।
চমেক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি ভাইস-টিপু জানান, ওয়ার্ড মাস্টার রাজিব বাবুসহ কর্মচারী রুপমের নেতৃত্বে কয়েকটি চক্র এই নির্যাতন চালায়।
তবে কর্মচারীদের মারধর ও অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুপম কান্তি। তিনি জানান, সোহেলের শার্টের কলার ধরে নিয়ে তাকে একটু শাসন করেছি।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত কমিটি রুপন কান্তি দাসের অপকর্মে সত্যতা প্রমানিত হওয়া কুমিল্লাতে করেন সাবেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।
আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার খবরে আতঙ্কে আছেন কর্মচারীরা। সাধারণ কর্মচারীদের দাবি বিভিন্ন অপকর্মের পোতা রোপন কান্তি দাসের জয়েন লেটার গ্রহণ না করে দ্রুত অন্যথায় বদলি করার দাবী জানান।