
মোঃ মাইন উদ্দীন, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম।
ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও সমুদ্র মোহনা সংলগ্ন নদীতে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজননের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। সরকারের আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসছে মাছধরা ট্রলার। ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আনন্দবাজার ঘাট কাঠগড় ঘাট ও রানী রাসমণি ঘাটসহ সহ উপকুলের হাজারো জেলেরা তীরে ফিরে এসেছে । তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও সমুদ্রে ২২ দিনের এ অবরোধ নিয়ে জেলেদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলেদের দাবী এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরন থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। তবে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন বন্ধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনী সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো, প্রনোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি সহ তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টনের দাবি জেলেদের।
কাট্টোলী রানী রাজমণির ঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মান্নান বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলে শুন্য হাতে তীরে ফিরে আসছে। সমুদ্রে আর আগের মত মাছ ধরা পরছে না। সমুদ্রে দেশী বিদেশি অবৈধ ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোন উদ্যোগ না থাকলেও বার বার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারপর আবার আবহাওয়া উল্টো।
জেলেদের নেতা প্রেলন দাস বলেন,এমনিতেই সাগরে মাছ পাচ্ছি না,তারপর এখন আবার নিষেধাজ্ঞা। তবে সরকার তাদের যে প্রনোদনা প্রদান করেন তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এই চালের সাথে ডাল ও তেল দেয়ার দাবী জানান।
মাছের ট্রলার মাঝি মো.কামাল বলেন, আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক ঋনে জর্জরিত। তার সাথে আবার দাদনের বোঝা। এই ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসায় জড়িত সকল ব্যবসায়ী হতাশ।
রানী রাজমণী ঘাট মৎস্য আড়দার সমবায় মালিক সমিতির সাভাপতি মোঃ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, জেলের প্রণোদনা আরো বাড়ানো উচিত। এই নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী, কোষ্টগার্ড ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে মিয়ানমার ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার বলেন, ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে, মা ইলিশ সহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। তাই সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ মৎস্যজীবীদের।
তিঁনি আরও বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে উপজেলার ৩০ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এরপরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।