রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টির দেখা নেই কাপ্তাইয়ে, ব্যাহত নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তিতে দেরি, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার নিয়ে শঙ্কা ডিপি ওয়ার্ল্ড ইস্যুতে বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্বেগ অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শেরওয়ানির জন্য ফ্লাইট আটকে রাখা কে এই বিমান কর্মকর্তা? স্বামী মাছ ধরতে সাগরে, গভীর রাতে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ শুরু হয়েছে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া, শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা কেপ ভার্দের বিপক্ষে কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশ এইচএসসি পরীক্ষা বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১ হাজার ৩৯০ পরীক্ষার্থী ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে নবজাতক চুরির চেষ্টা, চোরকে গণধোলাই ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, নতুন নির্বাচনের ইঙ্গিত

ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টির দেখা নেই কাপ্তাইয়ে, ব্যাহত নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নৌযান চলাচল এবং কর্ণফুলী পানি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

কর্ণফুলী পানি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ বছরের এ সময়ে পানির উচ্চতা সাধারণত ৮৪ দশমিক ১৬ এমএসএল থাকার কথা। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে গেছে।

nagad

nagad

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে পাঁচটির মধ্যে মাত্র তিনটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে মোট ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ২ ও ৪ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি কাপ্তাই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। পানির স্তর বাড়লে উৎপাদন বাড়ে, আর কমে গেলে উৎপাদনও কমে যায়।

KSRM

KSRM

তিনি জানান, গত এপ্রিল মাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানির সংকটের কারণে বর্তমানে দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে চালু থাকা ইউনিটগুলোও বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

এদিকে হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাঙামাটি জেলা সদর থেকে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নৌযোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

পানির স্বল্পতার কারণে লঞ্চগুলো নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত যেতে পারছে না। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হ্রদের বিভিন্ন ডুবোচরে লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আটকে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, ‘বাঘাইছড়ি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্য রুটগুলোতেও নৌযান নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ভোগ দেখা দিলেও এবার বর্ষা মৌসুমেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর মূলত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদকেন্দ্রিক নৌপরিবহন, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews